Posts

শেষ দেখা

এই আমাদের শেষ দেখা, হিমালয়ের পাদদেশের ঘন অরণ্যের মাঝে, কোনো এক কাঠের রিসর্টে এই আমাদের শেষ তিনদিন।। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত, রেলগাড়ির কামরায়, দুজোড়া চোখ, কামুক হতে চাইছে প্রতিটা চলে যাওয়া মুহুর্তে।। এই আমাদের শেষ দেখা।। প্রতিবারের মতোই, তোমার শেষ ডাক ও অবজ্ঞা করতে পারিনি আমি, তোমার সাথে কখনো রাত দেখা হয়নি আমার।। তাই তোমার ডাক, নিশির মতো টেনেছিল আমায়, শর্ত তিন দিন পর, স্টেশনের ওই বড় ঘড়ির নিচে, রাস্তা আলাদা হবে আমাদের, যা আর কোনদিন মিলবেনা।। এই আমাদের শেষ দেখা।। এখন ঘড়ির কাটায় ৩টে, সূর্যের আলো নিভে এসেছে প্রায়, তবু গভীর অরণ্যের ফাক ফোকর দিয়ে তীক্ষ্ণ দাঁত বসাতে চাইছে, আমাদের শেষ দিন যাপনে, খোলা বারান্দায় বসে শোনা যাচ্ছে, অচেনা কোনো পাখি, কিংবা বিষাক্ত কোনো শ্বাপদ। আমাদের মাঝে চায়ের কাপের ধোয়া মিশে যাচ্ছে, সুদূর আকাশে। এই আমাদের শেষ দেখা।। সন্ধেটাকে তোমার পছন্দের স্পাইরাল মোমে সাজিয়ে দিলাম আমি, বাইরে পূর্ণিমার পূর্ণ চন্দ্রালোক, কাঁচের জানলায় লেপ্টে যাওয়া, আমার স্তনবৃন্ত, তুমি উম্মত্ত হয়ে সোহাগে রাঙিয়ে দিচ্ছো, আমার বক্ষদেশ, উরু, নিতম্ব, যোনিপথ।। প্রথমবারের চেয়ে অনেক তীক্ষ...

October 🌼

তোমাকে আজকাল বড্ড আবছা মনে পড়ে জানো?? এ শহরে পুজো এসেছে আবার, তোমার গায়ের মতো শিউলি ফুলের গন্ধ আজকের হাওয়ায়, সারা রাত  তোমায় মনে পড়ে, তোমার আবদার, নীল খাম, আমার প্রিয় ডিও তোমার গায়ে, ভোরের দিকে অগোছালো শব্দ আসে আমার, খাতা পেন, ছুঁতে গেলেই হারিয়ে যায়।। ভোরের কাশফুলের হাওয়ায়, পাশের ছাদে, একটা সবজে শাড়ি ওড়ে, একটা না হওয়া সংসারের গন্ধ,শাড়িটার আঁচলে।। ওকে তোমার কথা বলিনি আমি, যেমন সেদিন মা কেও বলতে পারিনি, এখন মাঝেমধ্যে, এক কানের ঝুমকো পড়তে ভুলে যাই।। সহজ পাঠ আঁকা শাড়ি, আর কাঠের চুরির মতো স্বাভাবিক লাগে, আয়নায় তাকালে।। তুমিও বোধ হয় বাড়ি ফেরনা পুজোয় আর।। দুগ্গা মা কে দেখলে, বুকের কাছটায় মোচড় দেয়।। ঢাকের আওয়াজে খুব তেষ্টা পায় আজকাল, ধূপের গন্ধে ঘুম, আলোর চমকে চোখ বুজে আসে, ষষ্ঠীতে চা, সপ্তমী তে কফি, এইভাবেই দশমী এসে যায় আমার।। অঞ্জলী যায়, সন্ধি পুজো যায়, কাঠামো ভেসে যায় বহুবার।। শুধু তোমার মত কেউ জড়িয়ে ধরলে, শিউলি ফুলের গন্ধ পাইনা আর।।।।

এই শহরে ❤️

এই শহরের সব পুরোনো পাতার একটা তোমার মত নিব কলম চাই জানো?? হলদেটে পাতার গায়ে, তোমার মন খারাপি গাঢ় রঙ, কোথাও বা, ভুল লেখার নাম করে, তোমার একটু ছড়িয়ে পড়া, কিংবা তোমার অন্যমনস্কতায়, হলদে পাতার নষ্ট হয়ে যাওয়া।। তাই না??? এই শহরের সব দলা পাকানো কাগজের  তোমার মত একটা ডাস্টবিন চাই জানো?? সারা রাত ধরে সেই ভুল কবিতা কিংবা চিঠি পড়বে তুমি, মনে মনে চাইবে, আর কোনো কাগজ না আসুক তোমার ওপর, এরপরের সব লেখা, ঠিকানা পাক, তুমি এই ভুল লেখার ভাজেই গল্প বুনবে, না হয়।। তাই না??? এই শহরের সব পুরোনো কার্নিশের একটা তোমার মত পায়রা চাই জানো?? তোমাদের নিঃস্বতা ঘুলঘুলিতে বাসা বাধবে, খুব বৃষ্টিতে তোমাকে আগলে রাখবে ও, প্রোমোটার; জানলা,দরজা, গ্রিল ভাঙতে এলে, দুজনে একসাথে রাত জাগবে না হয়, অন্য সঙ্গী নিয়ে এলে কপট অভিমানী হবে তোমার প্রিয় কার্নিশ।। তাই না??? এই শহরের প্রতিটা ব্যস্ত মোড়ের, তোমার মত একটা হলুদ ট্যাক্সি চাই , জানো? বোকা যানজট এ আটকে তোমাদের প্রাচীন লাগবে দেখতে, তোমার মাথায় আটকে থাকা বোগেনভিলিয়াদের সরিয়ে দেবে, ও দুজন অশিতীপর বৃদ্ধ তোমায়, কফিহাউস, এর দিকে নিয়ে গেলে যানজট কাটবে শহরের।। ...

বাবাকে 🙏🏻

আকাশ থেকে তারা খসার পরে, মাটির বুকে গভীর হয় ক্ষত, তেমন করেই তোমার চলে যাওয়া, আমার ভেতর উলকাপাতের মত।। আমার মতো রাগ ছিলনা তোমার অভিমান ও নেহাতই খুব কম ই, তবুও এই চলে যাওয়ার মানে, গভীর ভেবেও বুঝতে পেরেছি কই ?? বুকের ভেতর কান্না চেপে রেখে, আগলে গেছি, তোমার আমার বিকাল। ওই রাস্তায় হাঁটতে পারিনা আর, যে পথ দিয়ে এগিয়েছিল বিষন্ন সেই সকাল।। বলছে সবাই, রাখতে হবে খেয়াল অনেকটা পথ হাঁটতে হবে আমায়, ঘোর বর্ষায় ও কাঁধ পাবনা আমি, হাত পাবনা, তোমার পকেট, জামায়।। এরম করেই একলা সকাল হবে, তোমায় ছাড়াই ঘুম আসবে রাতে।। ঠিক কতটা একলা হবো আমি, মাঝ রাস্তায় বলবো আমি কাকে ??

অসমবয়েসী প্রেমিককে

তুমি তখন অষ্টাদশের গালিব, আমার তখন একুশ ছোঁয়া রুমি। এমনটাই যে ঘটবে সবার শেষে দুঃস্বপ্নেও ভেবেছিলে তুমি ?? ফুরিয়ে এলো তোমার প্রেমিকারা তুমি তখন কলেজ চায়ের ঠেকে। আমিও শাখা ভাঙতে বসে ঘাটে, শাড়ির আঁচল আটকে ফেলি,তোমার মৃত প্রেমের খাটে।। তোমার বয়েস আমার বুকের খাজে, আটকে গিয়েও, তাকায়নি আর ফিরে, আমিও তোমায় আঁচল দিয়ে বেঁধে, আটকে গেছি, তোমার কাঁধের তিলে।। এমনিভাবেই রাত বেড়েছে ভোরে, শরীর সুতোয় সেলাই করে তোমায়; আজ ও তবু, ঝগড়া ঝাটির শেষে, প্রথম দিনের গন্ধ তোমার জামায় ।।।

মেঘ পিয়ানো

সমান্তরাল তাকিয়ে থাকো তুমি, শেডের নিচে ভিজতে থাকে ট্রাম ও, বালিশরা রোজ কান্না লোকায় কিসে, কোন স্কেলে ঠিক মাপবে বুকের ক্ষত?? কোন পাড়াতে বৃষ্টি আসে রাতে, কোন পাড়াতে হারিয়ে ফেল ছাতাও?? মেঘ জমলে পিয়ানোদের রিডে, সব শ্রোতাদের বাঁশির সুরেই কাঁদাও?? আজ ও তুমি একলা জাগো রাতে, চুল ঘেটে দেয়, সে ও আমার মতোই?? শেষ বিকেলের রোদ পড়ছে মুখে, ওকেও কি ঠিক লাগছে আমার মতোই?? অনেকটা পথ হাঁটার ছিল তোমার, আমার পাশে, বুকমার্কের মতো। প্রথম সকাল দেখার ছিল তোমার, আমার সাথে, বাবুই পাখির মতো।। মেঘলা কোনো শহর পড়ে আছে, তোমার দেওয়া বইয়ের পাতার মাঝে, "জন্ম আমার মন খারাপের টবে, একাই জীবন কাটিয়ে দিতে হবে।।"

নীল শিফন শাড়ি আর বিবাহবার্ষিকী

নীল শিফন শাড়ির ওপর সোয়েটার চাপিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এলা।। আজ ওদের বিবাহবার্ষিকী।। তোমার কথা মনে পড়লেই, আমার দর্জিলিং এর ম্যাল মনে পড়ে, ম্যালএর হাতল ভেঙে যাওয়া বেঞ্চটা, আর তার পেছনে এলিয়ে পড়া রাস্তা; রাস্তাটা ধরে এগোলে, একটা ক্যামেলিয়া ফুলে সাজানো ব্যালকনি, নীল শিফন শাড়ির ওপর সোয়েটার চাপিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এলা।। অপেক্ষা করছে, ঠিক ততটা অপেক্ষা, পাহাড়ি নদীর মোহনা ছুতে ঠিক যতটা অপেক্ষা লাগে, আজ ওদের বিবাহবার্ষিকী।। নীল শিফন শাড়ির ওপর সোয়েটার চাপিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এলা।। ইটের বাঁকাচোরা রাস্তার ওপর শীতেল রোদ মেখে দাঁড়িয়ে আছে,  কেভেন্টার্স,  গ্লেনারীস।। সকাল থেকে, তুমুল বৃষ্টিতে এই ঘিঞ্জি শহরটাকে ভালোবাসতে চেয়েছে ওরা, যেমন, আমি  তোমায় ভালোবাসতে চেয়েছি, মরীচিকা হয়ে।। আমাদের ছুঁয়ে দেখা হয়নি একে অপরকে, এলার ও হয়নি সবটা ভালোবাসা, দর্জিলিং এর জন্য পড়েছিল কিছুটা।। নীল শিফন শাড়ির ওপর সোয়েটার চাপিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এলা।। আজ ওদের বিবাহবার্ষিকী।। রক গার্ডেন এর তুমুল জলস্রোতের সামনে, এলার ঠোঁট নতজানু হতে চেয়েছিল, একবার।। কিন্তু অত সময় কোথায় আর। অত অবসর কোথায় আমাদের, প্রেমিক কে লু...