||week of love|| ❤️
মাণিকতলার মোড়ের বিরুষ্কার মান্যবর-মোহে -র বড় পোস্টারটার নীচে রোজ আটটা চল্লিশ এ এসে দাঁড়ায় ঋদ্ধি.. আর মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই পর্ণার বাসটা পাস করবে, আর ঐ কয়েক ঝলক দেখে নেবে ঋদ্ধি, সিগন্যালে আটকালে আরো কিছুক্ষন বেশী.. বিগত দু'বছর ঐ একই রুটিন দুজনের, এক অমোঘ অপেক্ষা... কোনোদিন বলা হয়ে ওঠেনা.. শহরের কোলাহলে হারিয়ে যায় অল্প করে....
ঠিক চিড়িয়ামোড়ের লাল সবুজ কমলা পতাকা গুলোর ভীর সরিয়ে, ভীর বাসটায় উঠে একটু হেলান দেয় কেকা, যেন একদন্ড জিরিয়ে নেওয়া। ব্যাগ থেকে ফোন বার করে... আলতো স্বরে বলতে থাকে কোথায় কপি ভাপা, কিংবা পোস্ত রেঁধে রাখা আছে, কোথায় ওয়ালেট কিংবা রুমাল, আমি বাস পেয়েছি, বলার ঠিক আগেই ওদের প্রান্ত ফোন কেটে দেয়, শ্রাবণ- এর মেঘ হয়ে যায় কেকার মুখটা..
প্রায় বছর পাঁচেক ওরা একসাথে, একই ইউনিভার্সিটি থেকে একই অফিস, বিঠোফোনের নাইন্থ সিম্ফনির মত সত্যি ছিল ওদের সবটা গল্প। প্রথম বার অন্তরার কপালে অন্য কারোর আঁকা লাল দাগটা বেশ অবাক করেছিল সৌপ্তিককে, বেশ কদিন ঘুমোতে পারেনি.. তবুও আজ ও অফিস টা এক, অন্তরাকে নিশ্চিন্তে অন্য বুকে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বটা আজও ওরই...
প্রিন্সেপ ঘাটে তখন ভাটা চলছে, পায়ের পাতা কাঁদায় ডুবিয়ে রূপকথা এঁকে চলেছে সৌনক আর রিয়া। বাড়িতে একের পর এক ছেলের বাড়ির লোকের ভীড়, তবুও রিয়ার ভরসা, সৌনক ঠিক সবটা সামলে নেবে। ডাব্লিউ.বি.সি.এসটা ক্র্যাক করলেই স্বপ্নের লাল নীল সংসার হবে ওদের.. অপেক্ষা.. আর তারপর সৌনকের ডাব্লিউ.বি.সি.এসের পজিটিভ রেজাল্ট আসে, রিয়ার তখন গায়ে হলুদ চলছে। ফোন টা বেজেই চলে।
প্রাত্যহিক এক সংবাদ পত্রের দৌলতে পত্রমিতালী হয়ে উঠেছিল, স্নিগ্ধা আর কৌস্তুভ। কেউ কাউকে না দেখেই বন্ধুত্ব গভীর হয়েছিল ওদের... দেখা হওয়ার দু'দিন আগেই, দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় কৌস্তুভ... আজও চিঠি লেখা বন্ধ করেনি স্নিগ্ধা, কৌস্তুভের ছবি না দেখেই, আর কোনোদিন কারোর হয়নি ও....
(নাহ্ এর মধ্যে একটা চরিত্র ও কাল্পনিক নয়, প্যারালালি, এরম গল্প চলতে থাকে আমস্টারডাম, নিউজার্সি কিংবা কলকাতায়... এই গোলাপী সপ্তাহে সব্বার গল্প সুন্দর হয়ে উঠুক, প্রেম বেঁচে উঠুক ফেব্রুয়ারি, এপ্রিল, অক্টোবর কিংবা ডিসেম্বরে...)
ki likheche !!!!
ReplyDelete