Posts

প্রেমিকের গন্ধ

আমার শহরের সারা গায়ে একটা রংচটা ক্রীমের গন্ধ আজ, আর বিকেলটা ছেড়ে যাওয়া প্রেমিকের মত তামাটে রঙের... তোমার কথা ভাবছিলাম আজ বিকেলে।। হ্যাঁ, তুমিও থামতে বলেছিলে সেইদিন, বলেছিলে শুধু নামটুকু মনে রাখতে, আমি ই পারিনি থামতে। তোমার উষ্ণতা সেদিন এক বেশ্যার আত্মাকে জাগিয়ে তুলেছিল, প্রতি রাতের শেষে যে শুধুমাত্র এক নিজস্ব পুরুষের কামনা করত, যার গায়ে লেগে থাকবে শুধু তার গন্ধ। আমি থেকে যেতে বলেছিলাম তোমায়..... তারপর থেকে রোজ তোমার গন্ধে ডুবতে ডুবতে  শিউলি ফুলের মত পবিত্র হয়ে উঠছি আমি। মেরুণ রঙের লিপস্টিক লাগিয়ে আয়নার কাছে এসে দাঁড়ালে আজকাল রজনীগন্ধার গন্ধ পাই আমি। ওইদিন তুমি ও শরীর চেয়েছিলে, স্নান ঘরের দরজার ওপাড়ে আমার সব হিসেব আবার গুলিয়ে গেছিল, শাওয়ারের জলের সাথে আমার গা বেয়ে নামছিল, অনেক চিৎকার- "I am in love with someone else" , "তোমার সাথে থাকা আর সম্ভব না" , "আমি অফিসে কাজ করতে আসি, প্লীজ নাটক বন্ধ করো।" , "ভুলটা আমার, লাই দিয়ে আমি মাথায় তুলেছি, তোমার যোগ্যতাই ছিল না" । কানে হাত দিয়ে সমস্ত চিৎকার থামিয়ে বাইরে এসে দেখি, তুমি তোয়াল...

আগলে রাখা

তোমার বুকে আগলে থাকা, আমার প্রতি রাতের, গন্ধ চেনে গোলাপ ফুল আর মৃত্যু পথের আতর।। প্রথম থেকেই তোমায় আমি পাহাড় বলে ডাকি, বেহায়া ঝড়না বুকের তিলে,আগলে রাখে যাকে।। রবীন্দ্রনাথ,প্রিয় শহর,চা এর ভাঁড় ছোঁয়ানো ঠোঁটে , ধূষর বিকেল, ট্রাম জানলায় রঙীন হয়ে ওঠে।। গভীর রাতে বৃষ্টি এসে, ঝিলের বুকে তৈরি করে ক্ষত, শব্দটা ঠিক, তোমার আমার অন্তমিলের মত।। শীতের সকাল, ফিসফিসিয়ে, কফি কাপের কানে, কী সব বলে, তোমার আমার আদর গুলো জানে।। ভোর হয়েছে, সকাল হবে, অনেক টা পথ বাকি, আগলে রেখো, যেমন করে ঝড় আগলায় পাখি।।

বাঁশিআলা

কাঁচের গুড়ো গলায় ছড়িয়ে পড়ার মত কষ্ট হয়, যেদিন থেকে  তোর পাশে ঘুম ভাঙ্গেনা। বোগেনভিলিয়ার আলগা পাপড়ি, দুরন্ত কোনো ঝড়ে ক্ষতবিক্ষত হওয়ার মতো ব্যথা জন্মায়, তুই ফিরে না তাকালে। বছর পঁচিশ প্রতীক্ষায় থাকা জোনাকির আলোর মত নিস্তেজ করে দেয়, তোর শরীরে লেপ্টে থাকা অন্যকোনো গন্ধ। শীতের বিকেলের মত নিমেষে নিমেষে এসেছিল, সমস্ত রঙীন আলো, যেদিন তোর পিঠে লেগে থাকতে দেখেছিলাম অন্য নেইলপলিশের সুখ।। সুইসাইড পয়েন্ট এ দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার শেষ ভাবনার মত, আজ ও আরেক বার তোকে 'ভালোবাসি' বলতে ইচ্ছে হয় তবু। ফানুসের মত নিষ্পাপ ভাবে আরো এক শেষবার তোকে লেপ্টে থাকতে ইচ্ছে হয়, কয়েক মূহুর্ত।। এইসব ভাবনা লিখতে লিখতে, মাঝখানের কোনো এক অজানা দ্বীপে আমি ঘুমিয়ে পড়ি, শেষ রাতে চোখে ভেসে ওঠে, আমার ডায়েরির পাতায় একটা বোগেনভিলিয়া গাছ, আর তার নীচে বসে বাঁশি বাজিয়ে চলেছে ফ্লুরিজের সামনের বাঁশি দাদাটা... বাজিয়েই চলেছে.. করুন একটা সুর... আমি দুবার ফুঁপিয়ে উঠি ভালোবাসি বলে, শীত আসে কাছে কোথাও......।।

আদরবাসা

তোর সঙ্গে প্রথম কথা মেসেঞ্জারের নীলচে আলোয়, য়্যালকোহল আর শাহরুখ খানের গল্প ঘেঁষে, তোর লেখাতে মন পিছলোল ... চুপই ছিলাম, তুইও হাজার দুয়েক মাইল দূরে তবুও মনের শান্ত ঝড়ে, কাছেই কোথাও তোর ই নামের মেঘ ডাকল।। শহর তখন শীত আদুরে, সন্ধ্যে রঙের মেঘের নীচে, ঘোর কুয়াশায়, আমি তখন অফিস ফেরত, একলা ট্রেনে.. জরুরী ডাক, তোর সাথে ঢের কথা আছে, তুইও জানতি , বিকেল শেষের রূপকথারাও তোর জন্যই অপেক্ষাতে.।। তবুও এই হাজার দুয়েক মাইল, পেরোতে যে সময় লাগে মনের, তা টের পেলাম এই বছরের শীতে, তোর ভেতরের রুমিও জানে কিছু... আমার দু'চোখ মেঘলা হঠাৎ, বৃষ্টি নামার আগের মতন, আবার কবে ফিরবি শহর, আর কতবার একলা হব, এসব ভেবেই তোর ই পিছু।। তারপর সব আগুন রঙের, মন খারাপের সাদা পাতায়, ক্রেয়ন আঁকা নতুন ছবি.. আদর ভেজা শরীর জুড়ে, বেহাগ বাজে, কাছে..দূরে..., প্রশ্নবোধক, দারির মাঝে, কতটা সুখ লুকিয়ে থাকে, খবর রাখে মনের শরীর.... ক্যাসেট  রিলে চৌরাসিয়ার বাঁশির মতো স্নিগ্ধ সুরে....|| এখন ও আদর ছড়িয়ে আছে, বুকের মাঝের নীলচে খাঁজে... তাইতো হাজার মন খারাপেও কোথাও একটা আদর বাজে, আলতো করে গালিব বাজে,।।

সহনীয়

এক লাখি দু লাখি রূপকথার মত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে অন্য হাতে হাত আর অন্য চোখে চোখ রেখে, অনির্বান চলে যাওয়ার পর একেবারে বিপদজনক বাড়ি হঠাতি ভেঙে পড়ার মত অবস্থা হয়েছিল মিতুলের জীবনটার…ঠিক যেন টয়ট্রেনের লাইনে বনগা লোকাল চালানোর মত…এলোমেলো… তারপর অনেক দিন পর সেই লাইনে টয়ট্রেন ফিরে এলেও…বাজার মন্দা…ঠিক যেন ঝন্ঝাট সরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো পশ্চিমবঙ্গীয় পাহাড়…যাই হোক…এ মন্দার সময়ে নানা প্রেম অপ্রেমের গল্প কিংবা কবিতা কিংবা ফিলোসফিকাল বই পড়ে নিজেকে সামলেছে মিতুল…আর সেই শাহরুখ খান রূপী (Dear zindegi- Jahangir Khan) মনের ডাক্তারও খানিকটা সামাল দিয়েছিল মিতুলকে…  তবু এরই মধ্যে প্রেম যে এক্কেবারে পায়নি বা হয়নি তা নয়… (কপিবুক মানসী ছিল্লার না হলেও… ফরমালিটির খাতিরে সুন্দরী বলাই যায় মিতুলকে…) কিন্তু তাদের সবাইকেই  কেমন যেন অসহনীয় লাগত মিতুলের… মন তো দূরের কথা চোখ মুখ না দেখেই তারা শুধু কী পড়ে আছ…?কোথায় কোথায় তিল আছে ? জানতে অধিক আগ্রহী হয়ে পড়ত…ফলে শরীর মনের বর্ডারে দাঁড়িয়ে সব হিসেব গুলিয়ে যেত মিতুলের…দিনের শেষে প্রিয় প্রাক্তনের সোশাল মিডিয়ার দরজায় মুখ থুবড়ে পড়ত মিতুল… তার জন্য পৃথিবীর কোনো কোণায় ...

চিলেকোঠা

অর্নব কে নিজের কল্পনার সাথে কিছুতেই মেলাতে পারেনা ঝিলমিল…মদ গাজা লেট নাইট আড্ডা এসবের যতটা সীমার দাগ ঝিলমিল মনে মনে কাটতে পারে তার অনেক ওপর দিয়ে যায় ছেলেটা…আবার ঝিলমিলকে সব জানিয়ে… ঝিলমিল ও বাড়াবাড়ি করেনা বেশী… কারণ ওর মনের মতো সো কলড পছন্দের ক্রাশ বা প্রাক্তনকে এত্ত পাগলামো করতে দেখেনি ঝিলমিল… ঘুম ভেঙে এর আগে কেউ ওকে সারপ্রাইজ দেয়নি… আপিস ছেড়ে আসেনি সযত্নে… ঝগড়ার পর সেধে কথা বলতে আসেনি… দশ মিনিট দেখবে বলে রাত জেগে এসে আধঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকেনি… ডেট করতে রাইড চড়ায়নি… কমপ্লিমেন্টের বদলে মোটুরাম বলেনি… ফেসবুক প্রোফাইল মুখস্ত করেনি… কবিতার মানে না বুঝেও ঝিলমিলের জন্য এলোমেলো শব্দ সাজায়নি… স্বপ্ন না বুনে সত্যি দেখায়নি… ঝিলমিলের মার সামনে এসে মাথা তুলে দাঁড়ায়নি… আর এই এত্ত অন্তমিলের মাঝে…ঝিলমিল দাড়ি কমা গুলিয়ে ফেলে… চিলেকোঠায় ভিজে যাওয়ার পরও নিজেকে চার্চের মোমবাতির মত পবিত্র লাগে… তপোবনের মত নিশ্চিন্ত লাগে… ঝিলমিলিয়ে ওঠে পাহাড়ী নদীর মত… <3

ভালো টালো বাসা টাসা

জীবনে চলতে চলতে কিছু আঘাতের দাগ থেকে যায় আমাদের সক্কলের গায়ে…তিতাসের ও আছে… এই ফেব্রুয়ারীর চোদ্দোটা এলে…আঘাতের দাগগুলো আরো স্পষ্ট হয় তিতাসের… এই তারিখটা কে ঠিকঠাক চিনিয়েছিল… বলিউড বাদশা… তারপর থেকে ছোটবেলার কোচিং.. কবিতার খাতা…আরচেস গ্যালারি… সব মিলিয়ে এই দিনটা ছিল মনের কোণে বসন্ত আসার দিন… ইচ্ছে অনেক ছিল তিতাসের এই দিনটাকে নিয়ে…বসন্তের হাওয়ায় মাখা প্রিন্সেপ…উড়ে যাওয়া চুল…অপ্রত্যাশিত ছুঁয়ে যাওয়া…আর নীলচে খামের ভেতর একটা হলদে চিঠি… ব্যস্!! এইটুকু দেখেই স্বপ্ন ভেঙে যেত তিতাসের… স্বপ্ন ভাঙার কোনো আওয়াজ হয়না…সেদিনও হয়নি… যেদিন…এরমই কোনো এক মেঘলা চোদ্দয় তিতাসের প্রিয় উপন্যাসের নায়িকা বদল হয়েছিল… আওয়াজ না হলেও ঘা বেড়েছে…ব্যথা বেড়েছে…স্বপ্ন থেকে দূরের হয়েছে তিতাস……    কিন্তু হঠাতি এক রোদেলা চোদ্দ এসে পড়ে… নীলচে খাম আসে তিতাসের ঠিকানায়…মন খারাপ ভালো করে একটা আদর মাখা রূপোলী বিকেল আসে… হাতে হাত রেখে আবার স্বপ্ন দেখায়…উপন্যাসের শেষের মত তিতাস ও এক দোয়েল সাঁকোর খোঁজ পায়…যেখানে স্বপ্ন আর সত্যি দুইয়ে মিলে যায়…  প্রেমে পড়া বা ওঠার কোনো দিন হয়না…আওয়াজ ও হয়না… বুঝতে হয়…বিশ্বাস...