Posts

নববর্ষ 🌸

 চৈত্র শেষের সন্ধে নামে বুকে, নতুন একটা লাল গালিচা, ছড়িয়ে পরে পূবে।।  আমপল্লবে সিঁদুররঙের ছোয়া , শুভ গন্ধে আর  আলোয় ভুবন ধোয়া।।  নতুন খাতায় লালচে কয়েন ছাপ, শঙ্খ ধ্বনিতে কেটে যাক সব পুরনো প্রাচীন শাপ।।  কবির কলমে শব্দ আসুক, নির্ঘুমেদের ঘুম, বৈশাখ এসে আলো করে দিক, শত রাত, নিঃঝুম।।

কুয়াশার মত

ভালোবাসা অনেকটা শীতের ভোরে নদীর চরে ছড়িয়ে থাকা পাতলা কুয়াশার আস্তরণের মত, অনেকদূর অবধি দেখা যায়না কুয়াশায়, ভালোবাসার পাতলা আস্তরণের নীচে আমরা ধীরে ধীরে ভুলতে বসি,  বহুদিন আগের ব্যাথার রাত, কিংবা অনেকদিন ধরে না ভুলতে পারা কোনো ফোন নাম্বার। তারপর বেলা বাড়লে একটা মিষ্টি রোদ ওঠে, তাকে গায়ে মাখতে মাখতে আমরা ভুলে যাই, ঠিক কতটা নামল আজকে পারদ। ভালোবাসা অনেকটা এই মিঠে রোদটার মতো, ভুলিয়ে দেয় কার যেন আসার ছিল, আজ ও এলোনা... ভালোবাসা অনেকটা  শীতের সোয়েটারের মতো, গায়ে জড়িয়ে আরাম হয়, তেমনই যখন শুকনো পাতারা শীতের শেষ বেলায় পিচ রাস্তায় প্যারেড করে, আর ওদের শিরশিরে আওয়াজে আমাদের মন খারাপ হয়, ঠিক তখনই একটা ফোন আসে, একটা গলার আওয়াজ, গায়ে জড়িয়ে নিলেই, মন খারাপ কেটে যায় নিমেষে। তারপর সন্ধে নেমে আসে, শহরতলির কোনো রংচটা মনখারাপি বাড়ির গা বেয়ে,  উষ্ণতার সাথে তাল মিলিয়ে ঠোঁট নেমে আসে চায়ের কাপ কিংবা ভাড়ে, ক্ষনিকের জন্য চোখ বুজে আসে আমেজে। ভালোবাসাও এই চায়ের আমেজের মতো, কোনো সন্ধ্যেয় মুখোমুখি বসলে, কবিতা, সিনেমা, থিয়েটার, তর্কের শেষেও পারদের সাথে লড়াইয়ে জিতে যায় আমেজ। তারপর রাত নেমে আসে, লেপের ...

খোলা চিঠি।।

একের পর এক মাইলফলক সরিয়ে এগিয়ে যায় জীবন। হোচট খাই, সামলে উঠি, কখনো বা এক দু ঘন্টা বসে থাকি ছাদে গিয়ে। এখন আমার ওড়ার জন্য অনেকটা আকাশ জানো? ডানায় হাওয়া ভরে দেওয়ার বেশ কয়েকজন লোক আশেপাশে। উড়তে কোনোদিনই ভয় পাইনা আমি, শুধু মনে হয় যদি আর মাটিতে ফিরতে না পারি, যদি তোমার চিহ্ন গুলোকে আঁকড়ে বাঁচতে না পারি। সেদিন বাড়ির কোণের নারকেল গাছটা কাটা পড়ল, তুমি নিয়ে এসছিলে ওটা, ভালো 'বাসা'- র যত্নের গাছ, আমার খুব কান্না পাচ্ছিল, তোমার কিছুই কি শেষ অব্দি রাখতে পারবনা আমি?  তুমি বিলীন হয়ে যাওয়ার আগের মিনিট পঁয়তাল্লিশ সময় আমায় বেশ শক্ত করে দিয়েছে জানো? শুধু মাঝে মাঝে পুজোর কুড়ি দিন আগে হঠাৎই যখন সন্ধেবেলার গড়িয়াহাটের সমস্ত আলো আমার চোখে লোডশেডিংয়ের মত লাগে, তখন বুঝি আর কেউ তোমার মত করে ' আমার মেয়ে ' বলেনা তো.. সব আলো, সব ভালোর মাঝে এটুকু অন্ধকার রেখো, যেই অন্ধকার টুকুতে তোমার সাথে নিয়মিত দেখা হবে। দিনের শেষে যেখানে আমি নরম হব একটু, যেটুকুতে জীবনের সব মাইলফলকের সবাইকে মনে থাকবে আমার। যেটুকুতে আমি চাইব; সবার ভালো হোক।।

যে দিনগুলোয় 💔

ক্যালেন্ডারে এমন কতগুলো দিন আসে. যে দিনগুলোয় খুব শীত করে, যে দিনগুলোয় হালকা আতরের গন্ধ থাকে, যে দিনগুলোয় কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই বৃষ্টি আসে তুমুল, যে দিনগুলোয় হলদে পাতারা ঝড়ে পড়ে ব্যথায়, যে দিনগুলোয় কথা রাখেনা সবচেয়ে প্রিয় জানলাটাও, যে দিনগুলোয়, যার সাথে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আলোচনা হতো একদিন, আজ তার জন্য ধুপ ফুল নিয়ে বাড়ি ফিরি, যে দিনগুলোয় খুব ভোরের দিকে ঘুম ঘোরে একটা ফোন আসে, জানতে পারি, মাঝসমুদ্রে নৌকায় জল ঢুকছে আমার, যে দিনগুলোয় সাঁতার না জানা একটা মেয়ে হঠাৎই সাঁতার শিখে যায়, যে দিনগুলোর গায়ে, শিকড় উপড়ানোর যন্ত্রনা জড়ানো থাকে, যে দিনগুলো উদযাপন করতে হয়, শুধু সেদিনের কালসিটে দাগ টা ভুলতে চাইনা বলে, যে দিনগুলোয় লিখতে বসি, আজ আর তাকে কিছু দেওয়ার নেই বলে।। যে দিনগুলোয় "ভালো থেকো" লেখা একটা চিরকুট উড়িয়ে দি, কোনো এক না পৌঁছনোর ঠিকানায়।। 

অমলতাসের নীচে

ছন্দ অমিল কবিতাদের সারি, ব্যস্ত শহর, মানায়না আর ট্রাম ও; থমকে যাওয়া অমলতাসের নিচে, হয়না দেখা, আসেনা নীল খাম ও। আমরা এখন ঘোরতর সংসারি, দরদাম করি, গড়িয়া হাটের মোড়ে; তবুও কখনো আষাঢ় সন্ধেবেলা, গুলোয় হিসেব তোমায় মনে পড়ে। মুঠোফোন ও জানিয়ে গেছে কবেই, এই ঠিকানায় উত্তর নেই আসার; তবুও আমরা দুজনই অপেক্ষমান, আসবে চিঠি, হঠাৎ ভালোবাসার। কাঠগোলাপে মুখ ঢেকেছে শহর, ক্লান্ত দুপুর, দীর্ঘ ফেরির ডাকে, তোমার চিঠি লুকিয়ে পড়ি, লোকাই; সঞ্চয়িতার অচেনা এক ফাঁকে। ফুরিয়ে গেছে সব কবিতার খাতা, জল জমেছে, অন্তমিলের পাড়ায়, তুমি আমায় ছেড়ে যাওয়ার পরে, কদম ফুলের গন্ধ ভাসে হাওয়ায়। ভাবতে থাকি আবার দেখা হবে, একই ছাতায়, একই রকম ভিজে, এমনই কোনো আষাঢ় সন্ধেবেলা, ফুরিয়ে আসা অমলতাসের নিচে।

তবু তুই রয়ে গেলি....❤️

অনেকটা পথ চলে এলাম হাঁটতে হাঁটতে, লাল সিগনালে দাঁড়িয়ে পড়া আর সবুজ সিগনালে জেব্রা ক্রসিং ধরে নিয়ম মেনে রাস্তা পার হওয়া মেয়েটার সিলেবাসে তুই খানিকটা out of syllabus ই বটে।  তবু তুই রয়ে গেলি; আটটা পাঁচটার অফিস, রবিবারের চিকেন, শীতের দুপুরের চোখ ঝা ঝা করা রোদ্দুর আর একের পর এক ভেঙে পড়া সম্পর্কের কংকালের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা আমার সাদা মাটা মফস্বলী জীবনের একটা ধুন্ধুমার ভালোবাসার গল্প হয়ে রয়ে গেলি তুই... তবু তুই রয়ে গেলি; শহরের কঠিন অসুখ, রোজনামচার অনিশ্চয়তা, সাহারায় তুষারপাত, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, চিমনি বেয়ে আমাদের গিলতে আসা কালো ধোয়া পেরিয়ে আমার চারতলার 2bhk ফ্ল্যাটের একফালি দক্ষিণী বারান্দা হয়ে রয়ে গেলি তুই... তবু তুই রয়ে গেলি,  আমার রাগ, জেদ, অভিমান, ছেলেমানুসি, কথা কাটাকাটি, হেরে যাওয়া, উঠে দাঁড়ানো, ফিরে তাকানো, কথা না রাখার মাঝে এক মুঠো সুনীল গাঙ্গুলী হয়ে রয়ে গেলি তুই...

ডিসেম্বরের চোদ্দ সেদিন

Image
এরমই এক ডিসেম্বরের চোদ্দ সেদিন, এক পৃথিবী লিখব বলে তখন আমি ঘর ছেড়েছি; নীলচে সবুজ পৃথিবীটার কোনো কোণায় থাকবো পড়ে, একাই বাঁচবো, একাই পাহাড় ডিঙিয়ে যাব। গ্লেনারীস বা ফুটের দোকান, যখন যেমন ইচ্ছে হবে, লিখব সবই লিখেই যাব। আমি তখন মেঘবালিকা, এই শহরে আমার জন্য তখন কারোর অপেক্ষা নেই। পিছুটানহীন শীতের রোদে, আদিগন্ত আকাশ আমার, শুধুই আমার। বাঁধ সাধল একটা ছেলে, হাজার বছর যে ছেলেটা এক পৃথিবী লিখেই গেছে, ছড়িয়ে গেছে সেসব চিঠি আদিগন্ত আকাশ জুড়ে; মেঘবালিকার সাধ্যি কোথায় সেসব চিঠি ফিরিয়ে দেওয়ার? মেঘবালিকা তখন ও যে একটা খাতাও শেষ করেনি। অগত্যা সেই ঘর বাঁধল মেঘবালিকা। উঠোন জুড়ে খসে পড়ল ডিসেম্বরের সব তারারা। বহু যুগের চুপ থাকা সব কবির খাতায়, হঠাৎ করেই বৃষ্টি এল ডিসেম্বরে। ওদের তখন ঘরের ভেতর হাজার হাজার নীল জোনাকি। যেই আলোতে হারিয়ে যাচ্ছে মেঘ বালিকার একলা বাঁচা.. ভরে উঠছে একলা থাকা কবির খাতা। বলছে ওরা  কালকে থেকেই শহর জুড়ে শীত আসবে জাকিয়ে এবার। ভাববে দুজন, এক পৃথিবী লিখব এবার দুজন মিলে, এক পৃথিবী লিখতে বসে একটা খাতাও শেষ হবেনা। কারণ, ডিসেম্বরের চোদ্দ তারিখ, এরমভাবেই;  খাতার ওপর অঝোর ধারায় বৃষ্...

'ভ' এ ভয়, ভ্যাকসিন আর ভালোবাসা।। ❤️

Image
 এই অতিমারীর সময়ে চারপাশে প্রেম মরে যেতে দেখছি আকছার, দূরত্ব প্রেম, দেখা না হওয়া কিংবা একসাথে প্রয়োজনের বেশি সময় কাটাতে হচ্ছে বলে ভেঙে পড়ছে একের পর এক সম্পর্ক। আবার কেউ কেউ হয়তো গড়েও তুলছে কিংবা জড়িয়েও যাচ্ছে বেশি করে। তো আজ এরমই একটা জড়িয়ে পড়ার গল্প শোনাই, কিংবা সত্যি শোনাই। দূরত্ব প্রেম দিয়ে শুরু হয়েছিল বলে করোনা, লকডাউন আমার প্রেম কাহিনীকে খুব একটা কাত করতে পারেনি। খুনসুটি, একে অপরকে সতর্ক বার্তা দেওয়া আর ঐ সব ঠিক হয়ে যাবে গোছের পজিটিভ বার্তা অনলাইনে ছড়িয়েই দিন কাটছিল। কিন্তু সব সতর্ক বার্তা কে মিথ্যে করে  অনেকের মতো আমিও করোনার প্রকোপে পড়েছিলাম, বেশ ছোট্ট করে.... মানে হসপিটাল অক্সিজেন কোনোটারই প্রয়োজন পড়েনি সে অর্থে, অনলাইন ডক্টরদের সুপরামর্শে আর মায়ের আদরে সপ্তাহ দুয়েকে ওষুধ খেয়ে সেরে উঠেছিলাম। কিন্তু ওই দু সপ্তাহে শারীরিক ক্ষতি কতটা হয়েছিল জানিনা, মানসিক লাভ হয়েছিল অনেকটা। ওই আরোই জড়িয়ে পড়েছিলাম আর কি! অফিসে থাকতেই একদিন খুব গলা আর গা হাত পা ব্যথা শুরু হয়, ও অনেকবার ফিরে আসতে বলছিল আমি পাত্তা না দিয়ে থেকে যাই আর রাতে বাড়ি ফিরে ধুম জ্বর আসে, ও ফোন করেছিল, জ্বরের ঘোর এ ও ব...

মৃত্যু শহর

Image
 এ শহর এখন মৃত্যুশহর, এই হাহাকারের মাঝে দাঁড়িয়ে আস্তে আস্তে নিভে আসে, বেঁচে থাকার আশা, ইচ্ছে, তাগিদ। প্রেমিকের চোখের দিকে তাকিয়েও আশা জাগেনা এক ইঞ্চি। বরং মিথ্যে করে দিতে ইচ্ছে হয়, সমস্ত পুরোনো গল্প, যে সমস্ত গল্পে নায়করা এগিয়ে যায় না ফেরার দেশে, আর নায়িকারা বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে নিভে আসা আলো। সমাজ বলে এটাই ছন্দ, নায়িকাদের ভালো রাখার তাগিদেই সমস্ত গল্পে নায়কদের চলে যাওয়াটাই গল্পের শ্রেষ্ঠ প্লট।। সেরা গল্পের তকমা পাওয়ার পথ। আমার সবটা উল্টে দেখতে ইচ্ছে হয়, চোখে চোখ রেখে জানতে ইচ্ছে হয়, নিভে যাওয়ায় আরাম? নাকি নিভে যাওয়া আলো দেখতে আরাম?? কেমন লাগে নায়কের চোখে সেই নিভে আসা আলো, অন্ধকার, অনিশ্চিত সেই একলা দিনরাত; মনের গভীরের কোনো অতল খাদ থেকে উত্তর আসে, আরাম এই শহরের সেরে ওঠায়, আরাম মহামারীর শেষে।। আরাম নায়ক নায়িকার একসাথে নতুন সূর্য দেখায়।।

গুলমোহর 💮

Image
 তোমার আমার সম্পর্কটা দিন দিন ওই রোদেলা মাঠে একা দাঁড়িয়ে থাকা গুলমোহর গাছটার মতো হয়ে যাচ্ছে জানো?? আমি আজ ও বুঝলামনা সবকিছু সামাল দিয়ে ও কার জন্য এভাবে রোজ অপেক্ষা করে, ঠিক যেমন তুমি, কিসের জন্য যেনো, আমার সমস্ত তিরস্কার অভিমান রাগ ঝগড়া সামলে শক্ত করে ধরে থাকো হাতটা।। আর সবশেষে বলো "আমরা তো দুজন দুজনকে ছাড়া বাঁচবোনা বল, কেন এরম করিস তুই??" আমিও জানিনা কেন করি, হয়তো তুমি আরো একটু আগলে রাখবে বলেই... আমার বেশ মনে আছে সম্পর্কের প্রথম দিন গুলোয় আমরা কোনোদিনই ভাবিনি একে অপরকে ছাড়া বাঁচবোনা, কিন্তু তুমি বলতে, দেখিস আমরা দুজন একদিন গাছ হয়ে যাব; আচ্ছা গুলমোহর গাছের মতো?? আজ এতগুলো দিন পেরিয়ে এসে যখন আমায় আরো বেশি করে থেকে যেতে বলো, আর সমস্ত মান অভিমানের শেষে বলো আমরা একসাথেই বাঁচবো, আমার মনে হয় শুধু এইটুকু শোনার জন্যই আমি হাজার বার ছেড়ে যাওয়ার ভনিতা করতে পারি।। সেই প্রথম আলাপের দিনের গান টার কথাগুলো চুয়ে চুয়ে পড়ে, সে সমস্ত রাতের গা বেয়ে, যে সমস্ত রাতে আমি তোমার অপেক্ষা করি, অপেক্ষা করি সকাল হলেই মাফ চেয়ে নেওয়ার। তুমি নেই, ভাবতে গেলেই যে হিমযুগ আমার ভেতর নেমে আসে, পরদিন সকালে তুমি ফিরল...

হেমন্তে হারিয়ে যাওয়া একটা চিঠি 🍁

Image
 প্রিয় রোদ্দুর পাশে এসে দাঁড়ালে, তোমার শরীরে হেমন্ত জমে থাকতে দেখি আজকাল, সেই গ্রীষ্মের আলাপ থেকে, শ দুয়েক বসন্ত কেটে গেছে আমাদের...  তবু তোমার হেমন্তে আটকে থাকার কারণ জানা নেই আমার। আমার শাড়ির খুটে যত্ন করে বেঁধে রাখি তোমার গায়ের হেমন্ত কে। বিকেল বেলায় হারিয়ে যায় আমার ডায়রীর সমস্ত কবিতারা, ওদের প্রায়শচিত্ত শেষ.... তবু যারা টিকে থাকে ওদের আমি মাঝরাতের জন্য বাঁচিয়ে রাখি। তুমি আসার সহস্র দিন আগে থেকেই আমার গায়ে তোমার গন্ধ, টের পেয়েছিল সমস্ত চারাগাছ। আমি কতবার আয়নাকে বলেছি, "না না ওরম কিছু না.." বারান্দায় হেমন্ত এসে দাঁড়িয়েছে ততবার,  আমি শুধুই ঘাড় গোজার মতো আস্তানা চেয়েছিলাম, ভোর আর বিকেলের মাঝে। আমার সমস্ত প্রাক্তন প্রেমিকের অসাধ্য ছিল সেটুকুই, আর তুমি, নিজেই ঘর হয়ে গেলে আমার। ভোরবেলা আদর জানলা দিয়ে বেরিয়ে গেলে, আমি আদরদাগ মুছতে লন্ড্রিতে পাঠাইনা চাদর।  অগোছালো বিছানাতেই সন্ধে বাতি রাখি আমি, আর জানলায় একটা গোলাপ গন্ধী ধুপ। আর তোমার আমার গল্পের বয়েসী তোমার জন্য আমার অপেক্ষা, সে তো আছেই। তুমি ফেরার পর, সেই চা, দোলনা, রংচটা দেওয়ালের ভেতরকার রঙিন সব গল্প, চলতে থাকে রোজ। এই...

১১ই অক্টোবর 🌼

Image
 মাঝে মাঝে শেষ বিকেলে, মাস্কের নিচে লুকিয়ে পড়া শহরটার ব্যস্ত ফুটপাথের রেলিং ঘেঁষে এসে দাঁড়াই, খুব প্রিয় একটা নাম পেছনের কাচে সাটা একটা কালচে গাড়ি আমায় আগের সিগনালে ফেলে রেখে অনেকটা দূর এগিয়ে যায়, আমি থমকে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকি, উল্টোদিক থেকে, "আমি নারী, আমি পারি।।" স্লোগান দিয়ে এগিয়ে আসা মিছিলটার দিকে, মিছিলের প্রথম সারিতে আমার মায়ের অবয়ব খুঁজে পাই, কিন্তু আমায় দেখতে পাইনা কোনোদিন। কারণ আমি ঠিক মিছিলে হাঁটতে পারলামনা কোনোদিনই। পারি বলতে, একটু আধটু কলম ধরতে, ভালোবাসাহীন কিছু ধূষর মহাকাব্য লিখতে পারতাম আমি....একসময় ভাবতাম ডালহৌসির কোনো এক নির্জন পাহাড়ে, কিংবা চন্দ্রতালের পাশের বিস্তীর্ণ একাকী বরফ ঢাকা প্রান্তরে বসে অনন্তকাল ধরে ভালোবাসাহীনতার মহাকাব্য লিখব আমি। এহেন আমার গল্পে ভালোবাসা টিকে যাওয়াটা একেবারেই সিলেবাসের বাইরে। কিন্তু সে থেকে গেল, থেকেই গেল, যতবার ভেবেছি, খাটের লুকোনো পেরেকে আঁচল আটকে গেছে, ফিরে দেখেছি সে ধরে রেখেছে আঁচলের খুট, মহাকাব্য ছেড়ে হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় রোজ রোজ নতুন ছোট গল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে, আমার খাতার পাতায়। তবু জীবনের প্রত্যেক অলিগলিতেই সে আমার হাতে খাতা ...

দেবীপক্ষ 🙏🏻

Image
 ছেলে বিদেশে সেটল্ড..ঝামেলাহীন জীবন ভালোই কাটে..রায় দম্পতির..তার ওপর উপরি পাওনা..পন্চমীতে ছেলে বৌমা আসছে দাদুভাইকে নিয়ে...এহেন এক সুখ সকালে...বীরেন্দ্রবাবুর শারদীয় ডাকে ঘুম ভাঙল.. অনিমাদেবীর..বিছানার পাশে রাখা টেবিলের চা এ চোখ গেল..সব্বনাশ..এত সুন্দর গলা শুনে স্বপ্ন দেখছেন না কি ভাবলেন..দেখলেন সবটাই সত্যি..দিলীপ বাবু বললেন- " কী গীন্নী..অবাক না কি?" "এ কী দেবীপখখের সূচনা??" অনিমা দেবী বিস্মিত... অনিলবাবু- "তা গিন্নী..সুখ কি শুধু বীরেন্দ্রবাবুই দেবে..আমিও নয় দিলাম..আর  দেবীপখখো তো..বছর তিরিশ আগেই  শুরু হয়েছিল..আমার জীবনে.. তাই আজ একটু চায়ের কাপে.. শুভ শারদীয়া... জানালাম" কানে "জাগো দুর্গা" ডাকটা বড় মিষ্টি লাগল... ভালোবাসা বুড়ো হয়না❤️ ------------------------------------------------- শনিবার ,সামনে পুজোর ছুটি, কাজের চাপ কম..অফিসের জানলা ঘেসে দাঁড়ালো আলাপ..কাঁচ ঢাকা জানলার পর্দা ঠেলে জ্যামিতিক আকারের আশ্বিনী রোদের টুকরো এসে পড়ছে টাইলস এর মেঝেতে...স্যুট বুট টাই এ নিজেকে বেমানান লাগে আলাপের..মনটা আজও কর্পোরেট হতে পারলনা...শব্দটা হঠাতি পুরনো কথা মনে করা...

একলা বিকেল

Image
 একলা বিকেল, কার্নিশে এক ঘুম না ভাঙা মন, বইয়ের তাকে ভাইব্রেশনএ তোমার মুঠোফোন, অনিচ্ছাতেই এড়িয়ে যাবে হাজারটা রিংটোন, এরম ভাবেই শহর জুড়ে, নিরুদ্দেশ হয় মন।। নাম করা সব উপন্যাসের শেষের পাতায় জানো, দু মিনিটের নীরবতা লুকিয়ে; খবর রাখো? আজ ও তুমি এক ই ভাবে বসন্ত রং মাখো। শেষ বিকেলের লালচে রোদে, সেই চোখেই চোখ রাখো। বছর তিনেক পেরিয়ে এলাম তোমায় আমায় মিলে, আজ ও ভাবি, ঝড়ের আগে কোথায় তুমি ছিলে, মন খারাপের সব কালো রং ,মিশছে তোমার নীলে, কালকে যখন মোমের আলোয় গোস্বামী পড়ছিলে।। হাজার রিংটোন ডিঙিয়ে এসে, মন তোমায় খুঁজে পাক, অনিচ্ছাতেও আগলে রেখো, এই দু জোড়া হাত।। চিলেকোঠায় বৃষ্টি এসে, ভিজুক বই এর তাক, অগোছালো গল্পগুলো  মলাট খুঁজে পাক।।

বিশ্বাসঘাতকতার স্কয়ারফিট... 🌃

Image
এ শহরে ইতিউতি গজিয়ে ওঠা বহুতলের মত প্রতি স্কয়ার ফিটে একটা করে পরকীয়া গড়ে ওঠে রোজ। আমি বেসরকারি কোনো এক বাসের জানলার পাশের সিটে বসে পড়ে আসা বিকেলের আলোয় ওদের দেখি, আমার হেডফোনের শব্দ ছাপিয়ে কানে আসে ওদের কথোপকথন- 'এর পরের ফোন টা ঠিক কাল সকাল সাতটায় করব, তার আগে ফোন করার দরকার নেই,' অমুক রঙের সার্ট পড়ে, অমুক বাসস্ট্যান্ড আর তারপর অমুক রিসর্ট, অমুক কালো ঠান্ডা পানীয়র বদলে অমুক সাদা পানীয়ের আবদার...; কিংবা যে যার বাড়ি পৌঁছে যাওয়ার আগে অটোর ব্যাকসিটে শেষ নিবিড়তাটুকু শুষে নেওয়া। আমি অবাক হয়ে দেখি,এই অতিমারীর সংকটেও মানুষ ভালোবাসছে, কিংবা ঠকাচ্ছে; বিশ্বাসঘাতকতা আর ভালোবাসার মাঝখানে ইদানিং আর কোনই পার্থক্য নজরে আসেনা আমার, শহরের অপ্রয়োজনীয় ফ্লাইওভার গুলোর মতোই ভালোবাসাও যেন নিতান্ত অপ্রয়োজনীয়, সিঁড়ি বা লিফ্ট চেপে অনেক ওপরে ওঠার তাগিদে আর সময়ের অভাবে এখন ভালোবাসার অনেক মুখ, এক মুখ আর কতদিন ই বা সহ্য হয়। এখন তো ফ্লাইওভারের ও পৌরুষ পরীক্ষা হয়, ভালোবাসা তো তাও খুব ই সামান্য কেউ, তাই হয়তো সহজেই মুখ বদলে যায়। অবশ্য আমার কিন্ত অঢেল সময়, সন্ধ্যের মুখে আমি বাস থেকে নেমে আসি, সুনসান এলাকার মাঝের...

मेरा कुछ सामान...💐

Image
ছেড়ে যাওয়া আর ছেড়ে আসার মাঝখানে একটা সরু চুলের মতো পাঁচিল আছে, খালি চোখে সচরাচর চোখে পড়েনা, তবু আছে। চলে যাওয়া বা চলে আসার কিছু আগের মুহূর্ত থেকেই তা টের পাওয়া যায়, কোথাও বা কারোর নিরন্তর ডেকে যাওয়া কে উপেক্ষা করে অপরজন এগিয়ে যেতে চায় অন্য  কোথাও বা শয্যাশায়ী ষাটোর্ধ বৃদ্ধ অনিচ্ছায়ও পরিজনদের সমস্ত প্রার্থনা কে দূরে ঠেলে এগিয়ে যায় অজানার দিকে, দু ক্ষেত্রেই কেউ ছেড়ে যায় আর অপরজন ছেড়ে আসে। ছেড়ে আসাকে আগাগোড়াই আমার অনেক বেশি আশাবাদী মনে হয়, কোনোদিন কারোর কোনো প্রার্থনা কিংবা কারোর কোনো ক্ষুদ্রতম থেকে যাওয়ার অনুরোধ কে ফিরিয়ে দেওয়ার মত দুঃসাহস হয়নি আমার, থেকে যাওয়াকেই জন্মদাগের মতো সত্যি মনে হয়েছে।। তবু দেখেছি, ছেড়ে যেতে, দুদিন আগেও কোনো কাগজী ফুলগাছের নিচে দেখা করেছি উপহার বিনিময় হয়েছে, কথা দেওয়া হয়েছে তারপর হঠাৎ ই হয়তো উপেক্ষার সাথে দেখা হয়েছে আর শ্রেয়া ঘোষালের রিংটোনের গলা টিপে নিয়ন আলো মোছা গলি বেয়ে নেমে এসেছে বিষন্ন সন্ধ্যা। আমি একলা ছাদে বসে আবৃত্তি করেছি কেউ কথা রাখেনি। ছায়াপথের দিকে চোখ রেখে ভেবেছি আমায় কিন্তু কথা রাখতেই হবে তারপর  নতুন সকাল এসেছে একদিন, দুটো বসন্ত পেরিয়েছে,...

Sunday_Motivation... 🌻

Image
বেশ মনে পড়ে ক্লাস সিক্স এ পড়তে জাস্ট মনের ইচ্ছে বা কথা গুছিয়ে রাখতে গিয়ে ডাইরি লেখা শুরু করেছিলাম, তারপর কবিতা লেখা, ছোট গল্প এভাবেই কোনো চাহিদা ছাড়াই আস্তে আস্তে কবে যেন অনামী শিল্পী হয়ে উঠেছিলাম। যত বড় হয়েছি নিজের অনিচ্ছাতেই কখনো কখনো প্রশংসা পেতে ইচ্ছে হয়েছে, আর সময়ের পাল্লায় পড়ে মাঝে মাঝে লাইক কমেন্ট শেয়ার এর প্রত্যাশাও করে বসি, মন মত না হলে মন খারাপ, ডিপ্রেশন ও হয় বটে। তাই মাঝে মাঝে  ছুটির দিন পেলে আকাশ, হাওয়া কিংবা গাছেদের কাছে গিয়ে বসি, মন দিয়ে দেখি ওরা কাজ করেই চলেছে আমাদের জন্যই, লাইক কমেন্ট শেয়ার তো দূরে থাক, আমাদের সময় ই হয়না ওদের দিকে একবার তাকানোর, ওদের ডিপ্রেশন হয়না কোনোদিনই, আদি অনন্ত কাল এভাবেই কাজ করে ওরা। মন ভালো হয়, আমি ছোটবেলার ডাইরিটা বের করে আরো লিখতে বসি, আরো অনেক লেখা বাকি আছে যে।।

Dil Bechara 💐

Image
Dil Bechara... হ্যাঁ দিল বেচারাই বটে, এই যেমন মনের ভীষণ কাছের একটা গল্পের ওপর চিত্রিত এই সিনেমাটা মনের খুব কাছের প্রিয় মানুষটির সাথে কোনো থিয়েটার এ দেখার ইচ্ছে ছিল, হল কই, আসলে মন ব্যাপারটাই বড় বেচারা, কাজের চাপে, সমাজের চাপে, সেভাবে তাকে পাত্তাই দি না আমরা, তবু আমরা যারা টুকটাক ভালোবাসতে পারি, এই ছবিটা তাদের জন্য, আসলে আমাদের সবার ই প্রায় ওরম একটা ভাঙাচোরা, রংচটা, বিবাদী বাগ লেখা , অর্ধ জলে নিমগ্ন মন খারাপের আস্তানা থাকে, কিংবা থাকাটা খুব দরকার... যেখানে দাঁড়িয়ে মনে হয়, এইভাবেই কেটে যাক প্রত্যেকটা দিন, ট্রামের দ্বিতীয় কামরার শেষ জানলাটায় দাঁড়িয়ে যেন একজোড়া চোখ বলেই চলে, "এইভাবেই থেকে যাব আমরা, বল??" হ্যাঁ মন বেচারাই বটে, এই যে দেশ জুড়ে, পৃথিবী জুড়ে চরম মহামারীর মাঝে দাঁড়িয়ে যারা ভালোবাসছে, স্বপ্ন দেখছে, যেখানে মৃত্যু হাটু মুড়ে বসছে ভালোবাসার কাছে, যেখানে দাঁড়িয়ে দু একজন আমি চলে গেলে পাশের মানুষগুলো কিভাবে বাঁচবে ভেবে মৃত্যুকে অপেক্ষা করতে বলছে এই ছবিটা তাদের জন্যে।  দুর্ভাগ্যবশত  খুব কাছ থেকে ক্যান্সার বা রাজরোগ কে দেখার দুযোগ হয়েছিল জীবনে, চকচকে সোশ্যাল মিডিয়ার যুদ্ধ...

#HashTagDeath

Image
মৃত্যু, मत , কিংবা death... সে আপনি যে ভাষায় যেমন ভাবেই বলুন না কেন, কি অদ্ভুত মন খারাপ মেশা, গম্ভীরএকটা শব্দ না?? ভয় করে যে সমস্ত শব্দে?? কি মনে পড়ে শব্দটা শুনলে?? ডিজিটাল স্ক্রিনের ওপর হঠাৎ একটা সরলরেখা, নাকি ওই স্যালাইনের শেষ বুদ্বুদটা? নাকি হঠাৎ করেই আপনার স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা একটা দুঃস্বপ্নের দিন?? Death is the cessation of all biological functions that sustain a living organism. Phenomena which commonly bring about death include aging, predation, poisoning, malnutrition, disease, suicide, homicide, drug intoxication, starvation, dehydration, and accidents or major trauma resulting in fatal injury. ভাবছেন এটা কি?? ওই যে শব্দটাকে আপনি খুব ভয় পান, google ওই ভয়টাকে মার্জিন টেনে ছোট করে লিখে দিয়েছে এইভাবে। Death!! search করেননি শব্দটা কোনোদিন?? সে কি?? এই কদিনে  nepotism, boycott, hashtag, ভারত চীন সীমান্ত, ৪৫ বছর আগের ইন্দোচীন সম্পর্ক সব সার্চ করে ফেললেন অথচ 2020র সবচে ইম্পরট্যান্ট শব্দ টা খুঁজে দেখলেন না একবার ও?? মৃত্যুর প্রকারভেদ, মৃত্যুর পরের সময়টুকু এইসব টাও সার্চ কর...

মন ভালোদের গল্প

Image
মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বর্ণ বিদ্বেষ, জাতিভেদ সব মিলিয়ে জেরবার ভারত তথা গোটা বিশ্ব, দোষারোপ, অসহযোগিতা, গুজব, বাড়ছে পাল্লা দিয়ে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে বাড়ছে মনের দূরত্ব ভেঙে পড়ছে সভ্যতা সম্পর্ক আমাদের ভেতরের সবটুকু ভালো, গ্রাস করছে মন খারাপ। অনেক অক্সিজেন ঘুরছে চারপাশে, আমরা জানতেও পারছিনা, তাই সবার জন্য আজ কিছু মন ভালো খুঁজতে বেরিয়েছিলাম আমরা।। সঙ্গীতা আইয়ার। বড় হয়ে ওঠা কেরালার পালাক্কাড়ে। পেশায় একজন চলচ্চিত্র পরিচালক এবং সাংবাদিক। কিন্তু এর পিছনে তিনি পৃষ্ঠপোষকতা করেন একটি সংস্থার। ‘ভয়েস ফর এশিয়ান এলিফ্যান্ট সোসাইটি’। ক্যালিফোর্নিয়া কেন্দ্রিক এই সংস্থা লড়াই করে ভারতে হাতির অধিকার নিয়েই। ছোট থেকেই কেরালার বিভিন্ন মন্দিরে ভগবানরুপী হাতিদের প্রতি ভক্তদের শারীরিক অত্যাচার তাকে নাড়া দিত, জীববিদ্যায় স্নাতক ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর এর পরও  এই বিশালাকার প্রাণীটির কষ্ট তাকে সমানভাবেই নাড়া দিতে থাকে, তথ্যচিত্র বানিয়ে ফেলেন  'Gods in Shackles' ।এই তথ্যচিত্র প্রকাশের মধ্যে দিয়েই শুরু হল লড়াইটা। তাঁর কাজে সাড়া দিলেন বহু মানুষ। সরব হলেন এই পাশবিকতার বিরুদ্ধে। ২০১...